সাভারে এনসিপির সমাবেশস্থলে ককটেল হামলা, আহত ৪ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
সাভারে এনসিপির সমাবেশস্থলে ককটেল হামলা, আহত ৪

সাভারে এনসিপির সমাবেশস্থলে ককটেল হামলা, আহত ৪

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’-পরবর্তী সমাবেশ চলাকালে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে সাভার পৌর এলাকার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এতে চারজন আহত হন। আহতরা হলেন শাহীন খন্দকার (৩০), জসিম (২৬), শাহাদাত হোসেন (৪০) ও ইমরান (৩৫)। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

 

এদিকে এ হামলার জন্য প্রশাসনকে দায়ী করেছেন দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এই বোমা বিস্ফোরণ প্রশাসনের সহায়তায় হয়েছে। কেন বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল? আমাদেরকে খুন করার পরিকল্পনায় এখানে বোমা বিস্ফোরণ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল রাতে সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।

 

এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত জানান, ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য প্রদানকালে সমাবেশস্থলে ককটেল হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ সময় মঞ্চে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।

এ ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সাভার থানার সামনে অবস্থান নেন। পরে তার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল থানার ভেতরে যান। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এ হামলার পেছনে সরকার ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জড়িত। তিনি বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করলেও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেয় না। এছাড়া মামলা থেকে আওয়ামী সংশ্লিষ্টদের অব্যাহতি দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

 

নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সাভার থেকে আমরা আগস্টে কর্মসূচি সমাপ্ত করেছিলাম। তারা বিদ্যুৎ বন্ধ করে এখানে বোমা ফাটিয়েছে। আমরা মনে করি প্রশাসনের সহায়তায় আজকের এই পদযাত্রাকে বন্ধ করার জন্য এখানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। সরকারকে ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুঁশিয়ার দিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারার জন্য আপনাদের জবাব দিতে হবে।

এনসিপির কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা হুঁশিয়ার থাকুন। আমরা জুলাইয়ের আন্দোলন চালিয়ে যাব। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করব, হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করব, সীমান্ত সুরক্ষা ও তরুণদের কর্মসংস্থানের দাবি সফলভাবে আদায় নিশ্চিত করব।

 

পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সভার দায়িত্বে যারা ছিল—পুলিশ প্রশাসন, ডিসিÑ কেন বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেল? কীভাবে এটা ঘটল? এই এলাকার এমপি কী করছে? সে কি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে? তিনি এ সময় এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এনসিপির কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এনসিপির পদযাত্রা চলমান থাকবে। ভয়ভীতি, বোমাবাজি—সবকিছুকে উপেক্ষা করে আমাদের পদযাত্রা চলমান থাকবে।

 

সাভার থানার ওসি (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রয়োজনীয় তদন্ত শুরু করেন। তিনি বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।


রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে মডেল ও অভিনেত্রী রিধিকা রিধির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৬টায় দিকে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

অভিনেত্রীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, একজনের সঙ্গে রিধিকার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আর আজ ভোরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে ভিডিও কলে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ভিডিও কলে থাকা অবস্থাতেই রিধি আত্মহত্যা করেন।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় মামলা নেয়া হচ্ছে । পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে। প্রসঙ্গত, মডেলিংয়ের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছেন রিধিকা রিধি। তার অভিনীত নাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘এখানে মানুষ বিক্রি হয়’, ‘বহুরূপী’, ‘ডাবল হানিমুন’ ও ‘সুন্দরী’।

রাজধানীর বসুন্ধরা থেকে জনপ্রিয় অভিনেত্রীর মরদেহ উদ্ধার

২০২৫ সালের ২০ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত গত এক বছরে বিভিন্ন অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের অবৈধ দ্রব্য জব্দ করেছে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশ। এসব অভিযানে ৮৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশ লাইনের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান পাবনার ঈশ্বরদীস্থ পাকশী রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি) মেহেদী হাসান।

 

তিনি জানান, বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশন এলাকা এবং আন্ত:নগর এক্সপ্রেস, মেইল ও লোকাল ট্রেনে এইসব অভিযান চালিয়ে এসব মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে গাঁজা ৪১ কেজি, হেরোইন ৪ কেজি ৬০০ গ্রাম, ইয়াবা ৫২৮ পিস, নেশাজাতীয় ইনজেকশন (এ্যাম্পল) ১ হাজার ১২৬ পিস, ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট ৪০২ পিস, কোডিনযুক্ত এসকপ ৬৪০ বোতল, ফেন্সিডিল ১৫০ বোতল, দেশিয় মদ ১৩ বোতল, কোডিন ফসফেট ৩০ বোতল এবং ৩০ বোতল কোডিনযুক্ত এমকে ড্রিল।

 

এ সময় রেলওয়ে পুলিশের পাকশী জেলার পুলিশ সুপার ও সাংবাদিকদের মধ্যে সাধারণত রেলপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা জোরদার, ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় রোধ, টিকিট কালোবাজারি ও অপরাধ দমনে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন।

 

সভায় ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মান্নান টিপু, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর মাহাতাব আলী ও রুহুল আমিন সহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মিডিয়ার সাংবাদিক ও পাকশী রেলওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

রেলওয়ে পুলিশের অভিযানে পৌনে ৪ কোটি টাকার অবৈধ দ্রব্য জব্দ

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকা থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের এক কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে ধানমন্ডি ৩২ এলাকায় অবস্থানকালে তাকে আটক করা হয়। পরে পুলিশের গাড়িতে করে তাকে ধানমন্ডি থানায় নেওয়া হয়।জানাে গেছে, আটক ব্যক্তির নাম অর্ণব দাস (৩৭)। সকাল সোয়া ১০টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাঙা বাড়িতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে আসলে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধানমন্ডি থানায় নেওয়া হয়েছে।

 

এদিন ভোর থেকেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর ভেঙে দেওয়ার বাড়ির সামনে সড়কের দুই পাশে পুলিশের ব্যারিকেড দেখা যায়। বাড়ির সামনের সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছেধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম বলেন, আটক ব্যক্তির নাম অর্ণব দাস। তার বাড়ি টাঙ্গাইলে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সক্রিয় কর্মী বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, ১৫ আগস্ট ঘিরে শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ।

ফুল দিতে এসে ধানমন্ডি থেকে যুবলীগ কর্মী আটক

টানা তিন দফা উত্থানের পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

 

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

নতুন দর অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।

 

এর আগে, সবশেষ গত ১৩ আগস্ট সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ১৩৩ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

 

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

 

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৫১ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৫১ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার

টানা তিন দফা বাড়ার পর দেশে স্বর্ণের দামে পতন

গাজীপুর জজ কোর্টের সামনে সরকারি আইনজীবী (এজিপি) অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট মাহীন হাসান শুভর ওপর হামলার ঘটনায় আদালতে মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরি কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তারা।

 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশে জজ কোর্টের সামনের সড়কে অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও হেলমেট দিয়ে অ্যাডভোকেট রুহুল আমিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা ও চোখ লক্ষ্য করে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে রুহুল আমিন ও মাহীন হাসান শুভ আহত হন। পরে তাদের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

ভুক্তভোগীরা জানান, হামলার পর আইনজীবী ও স্থানীয় লোকজন কয়েকজন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তবে অজ্ঞাত কারণে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

 

পরে চিকিৎসা শেষে অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলাটি ১০২১/২০২৬ নম্বরে রুজু করা হয়। পরে আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আদালতের জারি করা পরোয়ানা দ্রুত কার্যকর করে অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও আদালতে সোপর্দ করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী, মামলার বাদী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

 

তারা বলেন, মামলা দায়ের করায় আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের জীবননাশের হুমকি দিচ্ছেন। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

আইনজীবীরা বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে আইনজীবীসহ সাধারণ নাগরিকদের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনা আরও বাড়তে পারে। বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা রেখে তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন (এজিপি), গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম, অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল, অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান রাসেল, অ্যাডভোকেট আল আমিন ইসলাম আশিক, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ, অ্যাডভোকেট ওলিউল ইসলাম টুটুল, অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেন ও অ্যাডভোকেট মাহীন হাসান শুভ।

আইনজীবীর ওপর হামলার ঘটনায় পরোয়ানা, নিরাপত্তা চাইলেন ভুক্তভোগীরা

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুবার্ষিকী: রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচিত এক অধ্যায়ের স্মরণ

আজ ১৪ আগস্ট। ২০২৩ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির ও বহুল আলোচিত ধর্মীয় বক্তা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, ধর্মীয় বক্তা হিসেবে জনপ্রিয়তা এবং ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচার—সব মিলিয়ে সাঈদী ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব।

শেষ সময়ের চিকিৎসা

২০২৩ সালের ১৩ আগস্ট কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে প্রথমে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়।

পরদিন ১৪ আগস্ট রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনুসারী ও সমর্থকদের মধ্যে শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনে সাঈদী

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ধর্মীয় বক্তা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর ওয়াজ ও ধর্মীয় বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি একটি বড় শ্রোতাগোষ্ঠীর কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

এর পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তী সময়ে দলটির নায়েবে আমিরের দায়িত্বে ছিলেন।

ধর্মীয় বক্তা ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা ও বিচার

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়।

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন, লুটপাট ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার হয়।

পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাঁর মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।

এই বিচার ও রায়কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া, বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে সাঈদীকে ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হয় তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক মতবিভাজন।

মৃত্যুর পর প্রতিক্রিয়া

সাঈদীর মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশের পর তাঁর অনুসারী ও সমর্থকদের মধ্যে শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে তাঁকে স্মরণ করে দোয়া ও অন্যান্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অন্যদিকে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত হওয়ার বিষয়টি সামনে এনে বিভিন্ন মহল থেকে ভিন্ন প্রতিক্রিয়াও জানানো হয়।

ফলে তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত থাকে।

মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জীবন ছিল একই সঙ্গে ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও বিচারিক ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ধর্মীয় বক্তা হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা যেমন ব্যাপক ছিল, তেমনি তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাকে ঘিরে ছিল তীব্র বিতর্ক।

আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর অনুসারীরা তাঁকে শ্রদ্ধা ও দোয়ার মাধ্যমে স্মরণ করছেন। একই সঙ্গে তাঁর জীবন ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে।

ইতিহাসের কোনো আলোচিত ব্যক্তিত্বকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আবেগের পাশাপাশি আদালতের নথি, ঐতিহাসিক তথ্য ও যাচাইযোগ্য সূত্রকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সাঈদীর জীবন ও রাজনৈতিক অধ্যায়ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এমনই একটি আলোচিত অধ্যায়, যা নিয়ে আজও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুবার্ষিকী: আলোচিত এক অধ্যায়ের স্মরণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে (বিএসপিআই) একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দফায় দফায় ক্যাম্পাসের ছাত্রাবাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

বিএসপিআই সূত্র জানায়, ইনস্টিটিউটের ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরা মূলত দুটি ফোরামে বিভক্ত। এর একটি ফোরাম গঠিত হয়েছে কক্সবাজার জেলার শিক্ষার্থীদের নিয়ে। আরেকটি অন্য সব জেলার শিক্ষার্থীদের নিয়ে। গতকাল রাতে সংঘর্ষে জড়ানো দুটি পক্ষ মূলত ওই দুই ফোরামের। তবে কী কারণে সংঘর্ষ হয়েছে ও ফেসবুক স্ট্যাটাসে কী ছিল, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

 

আহত ১২ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাঁচজন কক্সবাজার জেলার। তারা হলেন হোসেন নুর আবিদ, মোস্তফা ওবায়দুল, তাকবির হাবিব, আরাফাত আবির ও মো. ইমরান। আর অন্যরা ভিন্ন ভিন্ন জেলার। তারা হলেন আবদুল্লাহ আল তৌসিফ, আল আমিন, আদিত্য রায়, মো. হাসান খন্দকার, মেহেরাব হোছাইন, মো. মোস্তাকিম ও তারেক হোছাইন।

 

সংঘর্ষের পর রাতেই বিএসপিআই কর্তৃপক্ষ আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। জানতে চাইলে ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনাটি সত্যি। ঘটনাটি তদন্তে অটোমোবাইল বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী রহমত উল্লাহকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ।’

 

সংঘর্ষের খবর পেয়ে রাতেই কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জানতে চাইলে শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।’

 

ইনস্টিটিউটের হোস্টেল সুপার আবদুল মান্নান বলেন, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুটি পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এখন ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

রাঙামাটিতে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১২

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে জাহাজ কাটার সময় গ্যাস লিকেজ থেকে দুর্ঘটনায় নিহত ৯ জনের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

 

এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসন ও পক্ষ থেকে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড মালিকদের সংগঠন বিএসবিআরএ এর পক্ষ থেকে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন গঠিত ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি কারও গাফিলতি বা দায় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে সুপারিশসহ সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

এদিকে শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুর্ঘটনাকবলিত স্থান পরিদর্শনে যান শিল্প সচিবসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা জানান, জাহাজটিতে ২১.৯ পিপিএম হাইড্রোজেন সালফাইডের অস্তিত্ব পেয়েছে বিস্ফোরক অধিদপ্তর, যা খুব বিষাক্ত।

 

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে জাহাজ কাটার সময় গ্যাস লিকেজ থেকে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন।

সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণে নিহত ৯ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ট্রাকের চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক নারীসহ গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিনজন। আহতদের উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরের পর হাতীবান্ধা উপজেলার সোনালী ব্যাংক সূচনা চত্বর এলাকায় হিরোন মটরস শোরুম সংলগ্ন ঢাকা-বুড়িমারী মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন- হাতীবান্ধার বড়খাতা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সারডুবি এলাকার জহুরুল (৫০) এবং সিঙ্গিমারী এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে আব্দুল জলিল (৫০)।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লালমনিরহাট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা মেট্রো-ট ১২-৫৪৮২ নম্বরের ট্রাকটি হাতীবান্ধার সোনালী ব্যাংক সূচনা চত্বর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে বড়খাতা হয়ে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে সজোরে চাপা দেয়। পরে ট্রাকটি অটোরিকশাটিকে টেনেছেঁচড়ে বেশ কিছু দূর নিয়ে গিয়ে সড়কের পাশে থাকা ‘হিরোন মটরস’ মোটরসাইকেলের শো-রুমে ঢুকে পড়ে।

এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। শো-রুমে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা দুই যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

 

হাতীবান্ধা থানার ওসি আশরাফুজ্জামান সরকার জানান, এ ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। অটোরিকশায় থাকা এক নারীসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকটি আটক করেছে স্থানীয়রা। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

যাত্রীবাহী অটোরিকশাকে টেনেহিঁচড়ে শো-রুমে ঢুকে পড়লো ট্রাক, নিহত ২

কুমিল্লার দেবীদ্বারে এক মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি ও অনৈতিক ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা তাকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।

 

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর ভূঁইয়া বাড়ির হোসেনপুর পশ্চিম ও উত্তরপাড়া নূরে মদিনা মাদ্রাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

 

আটক ব্যক্তি হাফেজ মাওলানা মো. মিজানুর রহমান (৫০)। তিনি ওই মাদ্রাসার সুপার এবং স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম। তার বাড়ি বরুড়া উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর ইউনিয়নের পোমতলা গ্রামে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এক কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা মিজানুর রহমানকে মারধর করে মাদ্রাসা কমপ্লেক্সে আটকে রাখেন। পরে কয়েকজন তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করলে স্থানীয়রা ধাওয়া করে চরবাকর-হোসেনপুর সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে আটক করেন এবং গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে তুলে দেন।

 

কমপ্লেক্সের বাবুর্চি মো. ইব্রাহিম জানান, মাদ্রাসার সুপারের ১২ বছর বয়সী ছেলে সিয়াম ওই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে। বাবার মোবাইলে কিছু অনৈতিক ভিডিও দেখে সে বিষয়টি তার মাকে জানায়। পরে বন্ধুদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ভিডিওগুলো ইব্রাহিমকে দেয় বলে দাবি করেন তিনি। এরপর স্থানীয় কয়েকজনের মাধ্যমে ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলে জানান ইব্রাহিম।

 

অভিযোগকারী কিশোরীর ভাষ্য, প্রায় দেড় বছর ধরে মিজানুর রহমান তাকে বিরক্ত করে আসছিলেন। এ কারণে তিনি তার কাছে প্রাইভেট পড়া বন্ধ করে দেন। তার অভিযোগ, তাকে অচেতন করে অনৈতিকভাবে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়েছে।

 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিজানুর রহমান। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো তার নয় এবং অন্যদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও। তিনি বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে ওই ছাত্রীর মাসিক শুরু হওয়ার পর তাকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

স্থানীয় ইমরান ভূঁইয়া জানান, মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা ও ইমামের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে এর আগেও নারীদের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল এবং গত দেড় বছরে এ নিয়ে অন্তত তিনটি সালিস হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

 

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয়রা মাদ্রাসা সুপারকে মারধর করে আটকে রেখেছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে ঘেরাও করার চেষ্টা করে। ভুক্তভোগীর বাবা মামলা করলে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বাবার মোবাইলের অনৈতিক ভিডিও ভাইরাল করলো ছেলে, স্থানীয়দের গণপিটুনি

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে মডেল ও অভিনেত্রী রিধিকা রিধির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৬টায় দিকে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

অভিনেত্রীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, একজনের সঙ্গে রিধিকার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আর আজ ভোরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে ভিডিও কলে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ভিডিও কলে থাকা অবস্থাতেই রিধি আত্মহত্যা করেন।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় মামলা নেয়া হচ্ছে । পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে। প্রসঙ্গত, মডেলিংয়ের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছেন রিধিকা রিধি। তার অভিনীত নাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘এখানে মানুষ বিক্রি হয়’, ‘বহুরূপী’, ‘ডাবল হানিমুন’ ও ‘সুন্দরী’।

রাজধানীর বসুন্ধরা থেকে জনপ্রিয় অভিনেত্রীর মরদেহ উদ্ধার

নাটোরের লালপুরে বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে দুই সাংবাদিককে লাঞ্ছিতের ঘটনায় ছাত্রদলের তিন কর্মীকে বহিষ্কার করেছে লালপুর থানা ছাত্রদল।

 

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বহিষ্কৃতরা হলেন—মো. জাহিদ হোসেন (৩২), মো. শফিকুল ইসলাম শফিক (৩৫) ও মো. মামুন আলী (২৫)।

 

লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. রায়হান কবির সুইট ও যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবু রায়হান স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১২ আগস্ট লালপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে এনটিভি অনলাইনের প্রতিনিধি সজীবুল হৃদয় ও মানবজমিনের লালপুর উপজেলা প্রতিনিধি মো. রাশেদুল ইসলামকে লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনায় তিন কর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

ঘটনার সঙ্গে জড়িতের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাংগঠনিকভাবে তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে কেউ কোনো কর্মকাণ্ড করলে ভবিষ্যতেও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বহিষ্কার আদেশে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে লালপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভের সময় বিক্ষোভকারীরা সাংবাদিক সজিবুল ইসলাম হৃদয় ও রাশেদুল ইসলাম লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় উপজেলা ছাত্রদলের তিন কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়।

সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় ছাত্রদলের ৩ কর্মী বহিষ্কার

বিএনপি সরকার যতদিন সরকারে আছে ততদিন শিক্ষকদের আর অবসর ভাতার জন্য অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকার বকেয়া ভাতার জট খুলেন। সরকারের এককালীন ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে iBAS+ সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষকদের নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হয়।

 

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, যতদিন আপনাদের নির্বাচিত বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে আপনাদেরকে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। আগামী দিনগুলোতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর যন্ত্রণা ছাড়াই যথাসময়ে অনলাইনে আপনাদের প্রাপ্য টাকা অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।

 

শিক্ষকদের হয়রানির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, শিক্ষক সমাজ যারা নীতি-নৈতিকতা আর আদর্শের বাণী শিখিয়ে লাখো শিক্ষার্থীকে বড় করে তোলেন, তাদেরকেই যদি নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলতে ঘুষ দিতে হয় কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হয়, তবে সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়; বরং জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা ও হীনতাই প্রকাশ পায়। আজ আমরা কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনে তাদের টাকা পাঠিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।তারেক রহমান বলেন, টাকা পৌঁছে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা অত সহজ ছিল না। পতিত, পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী সরকার যেভাবে ব্যাংক-বিমাসহ প্রতিটি সেক্টর থেকে লুটপাট করেছিল, শিক্ষকদের এই তহবিল দুটিও তা থেকে রেহাই পায়নি। জাল ইনডেক্স তৈরি করে এবং দুর্বল ব্যাংকে অর্থ সরিয়ে এই তহবিল দুটিকে প্রায় দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছিল। ফলে ২০২২ সাল থেকে শিক্ষকরা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েন। বর্তমান সরকার বিশেষ ব্যবস্থায় শিক্ষকদের দুরবস্থার কথা চিন্তা করে এই বিশাল অর্থের সংকুলান করেছে।

 

বক্তব্যের শুরুতে প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী দেন, শিক্ষকদের কল্যাণে বেগম জিয়ার উদ্যোগেই ১৯৯১ সালে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী ‌কল্যাণ ট্রাস্ট এবং ২০০২ সালে অবসর সুবিধা বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। শিক্ষা বিস্তারে, বিশেষ করে নারীদের অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালুর ক্ষেত্রে বেগম জিয়ার ভূমিকা আজ বিশ্বজুড়ে রোল মডেল।

 

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সমাজের ‘আলোকবর্তিকা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা প্রচলিত নিয়মে পেশা থেকে অবসর নিলেও শিক্ষক হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি। বাংলাদেশের আবহমান কালের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আপনারা ভূমিকা রাখবেন।

 

সকাল সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

অবসর ভাতার জন্য শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

২০২৫ সালের ২০ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত গত এক বছরে বিভিন্ন অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের অবৈধ দ্রব্য জব্দ করেছে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশ। এসব অভিযানে ৮৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশ লাইনের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান পাবনার ঈশ্বরদীস্থ পাকশী রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি) মেহেদী হাসান।

 

তিনি জানান, বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশন এলাকা এবং আন্ত:নগর এক্সপ্রেস, মেইল ও লোকাল ট্রেনে এইসব অভিযান চালিয়ে এসব মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে গাঁজা ৪১ কেজি, হেরোইন ৪ কেজি ৬০০ গ্রাম, ইয়াবা ৫২৮ পিস, নেশাজাতীয় ইনজেকশন (এ্যাম্পল) ১ হাজার ১২৬ পিস, ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট ৪০২ পিস, কোডিনযুক্ত এসকপ ৬৪০ বোতল, ফেন্সিডিল ১৫০ বোতল, দেশিয় মদ ১৩ বোতল, কোডিন ফসফেট ৩০ বোতল এবং ৩০ বোতল কোডিনযুক্ত এমকে ড্রিল।

 

এ সময় রেলওয়ে পুলিশের পাকশী জেলার পুলিশ সুপার ও সাংবাদিকদের মধ্যে সাধারণত রেলপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা জোরদার, ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় রোধ, টিকিট কালোবাজারি ও অপরাধ দমনে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন।

 

সভায় ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মান্নান টিপু, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর মাহাতাব আলী ও রুহুল আমিন সহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মিডিয়ার সাংবাদিক ও পাকশী রেলওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

রেলওয়ে পুলিশের অভিযানে পৌনে ৪ কোটি টাকার অবৈধ দ্রব্য জব্দ

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। রাজধানীর ধানমন্ডিতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে হানা দেয় একদল সেনা সদস্য।

 

হত্যা করা হয় শেখ মুজিবুর রহমান, তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা, তিন ছেলে কামাল, জামাল ও রাসেল, ভাগিনা ফজলুল হক মনি ও তার স্ত্রী আরজু মনি, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতসহ পরিবারের ১৭ সদস্যকে। দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

 

তখন অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত ছিল দেশ। বাকশাল গঠন করে কায়েম করা হয়েছিল একদলীয় শাসন। নিষিদ্ধ হয়েছিল বাকি সব দল।

 

এ বিষয়ে চর্চার সম্পাদক সোহরাব হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যারা যুদ্ধ করেছেন, তারাই আবার তাকে হত্যা করলেন। তো এখানে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা কাজ করেছে। ব্যক্তিগত ক্ষোভ কাজ করেছে। ওই সরকার যদি একটা গণঅভ্যুত্থান হতে পারত, তাহলে ও ন্যায্যতা পেত। কিন্তু আপনি একদিন সকালবেলা একটা বাড়িতে ঢুকে আপনি হত্যা করে আসলেন।

 

তবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সদস্য সচিব মফিদুল হক বলেন, সপরিবারে উৎখাত করা এরকম ঘটনা কিন্তু মধ্যযুগের একটি ঘটনা। যারা ঘটনাটা ঘটিয়েছে, তারা কিন্তু একটি বিশেষ গোষ্ঠী চক্রান্তমূলকভাবে এই কাজটা করেছে। এটা রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই ঘটনাটার পরিণতিতে আমরা আসিনি।

 

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ ত্বরান্বিত করে। ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। এর মধ্যে ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ৫১ বছর আজ

১৯৯১ সালের পর আবারও রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে মুখোমুখি সরকার ও বিরোধী পক্ষ। পঞ্চম জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি পদে সেবার বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। আর বিরোধী দলের প্রার্থী ছিলেন বদরুল হায়দার চৌধুরী।

 

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছে দেশ। ২৩তম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ক্ষমতাসীন বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিরোধী দল মনোনয়ন দিয়েছে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমদকে।

 

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা সত্ত্বেও কেন রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিয়েছে বিরোধীরা- এমন প্রশ্নে জোট নেতাদের দাবি, জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়, বরং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করাই তাদের লক্ষ্য।

 

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থ কি? যদি দল একজনকে নির্বাচন দিয়ে একজনকেই মনোনয়ন দিয়ে দিলো, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি বিজয়ী হলেন। এটা তো দলের, এটা তো জাতির স্বার্থ না। জাতীয় স্বার্থ হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যদি একজন রাষ্ট্রপতি হন, তিনি জাতির ভূমিকা পালন করবেন।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিরোধী দলের একটা স্বাতন্ত্র্যবোধ থাকতে হয়, স্বকীয়তা থাকতে হয়। এক কথায় গণতান্ত্রিক চর্চাটাকে আমরা জনগণের সামনে নতুনভাবে নিয়ে এসেছি পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা কি করতে চাই- এই মেসেজটা আমরা দিতে চাই।

 

বিরোধী জোট বলছে, ভিন্ন একটি বার্তাও দিতে চাইছেন তারা। দলীয় পরিচয়ের বাইরে মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ এক রাজনীতিককে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে সামনে আনার চেষ্টা করেছেন।

 

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী সবাইকে নিয়ে যে দেশ গড়তে চায় এটা তার একটা উৎকৃষ্ট প্রমাণ। দেশ এবং জনগণের স্বার্থে, দেশ গড়ার প্রয়োজনে আমরা সুনির্দিষ্ট দল, সুনির্দিষ্ট আদর্শ, দলীয় গণ্ডি এবং নিজস্ব চিন্তাধারার দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে দেশকে প্রাধান্য দিই।

 

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এ বিষয়ে আরও বলেন, তিনি একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। এটা হচ্ছে জাতীয় বিষয়। আর সর্বদলীয় ১১ দলের মধ্যে যেহেতু এখানে ১১টি দলের বিষয়, সবার কাছে যিনি গ্রহণযোগ্য এবং সবার মধ্যে যিনি সিনিয়র, তাকেই নির্বাচন করা হয়েছে। ফলে আমি মনে করি কর্নেল অলি খুব ভালো একজন চয়েস বিরোধী দলের জন্য।

 

জুলাই সনদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদান দলীয় প্রভাবমুক্ত করার দাবিও জানান বিরোধী জোটের নেতারা।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ার কারণ জানাল বিরোধী জোট

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d